গোপালপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জাল ব্যবসা পড়েছে চরম সংকটে। দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার কারণে নদী-নালাগুলোতে পানি শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে মাছ ধরার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ ও নিষিদ্ধ চায়না জালের অনুপ্রবেশ—যা বৈধ জাল ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করেছে দুর্বিষহ পরিস্থিতি।
স্থানীয় জেলেরা জানান, পানির অভাবে মাছ ধরাই বন্ধ হয়ে গেছে। আর যেটুকু মাছ পাওয়া যায়, তাও চায়না জালের ফাঁদে আটকে যায়। এসব জাল এতটাই সূক্ষ্ম যে ছোট ছোট মাছও রেহাই পায় না, ফলে ভবিষ্যতের মাছ উৎপাদনের পথও রুদ্ধ হচ্ছে।

গোপালপুর বাজারের প্রবীণ জাল ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, “২৫-৩০ বছর ধরে জালের ব্যবসা করছি। এতোটা খারাপ সময় কখনো দেখিনি। পানি নেই, বৃষ্টি নেই, ফলে মানুষ জালই কিনছে না। আবার চায়না জালের কারণে বৈধ জালের চাহিদাও নেই। এখন দোকান বন্ধ রেখে ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।”
স্থানীয়রা মনে করেন, চায়না জালের অনুপ্রবেশ বন্ধ না হলে এবং পানি সংকট চলতে থাকলে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জাল শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে। তারা প্রশাসনের কাছে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান ও আমদানি-বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, “চায়না জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। তবে এর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলা এখন সবচেয়ে জরুরি।”
জেলেদের জীবিকা, পরিবেশ এবং মাছের প্রজনন রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। না হলে গোপালপুরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
Leave a Reply