
স্টাফ রিপোর্টার : সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদন্ডের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ছড়িয়ে পড়া ছবির এক নারী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের সুয়েটি আক্তার বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। মেয়ের জীবিত থাকার খবরে আশায় বুক বাঁধলেও এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের। ১৫ দিন আগেও পরিবারের সাথে কথা হয় সুয়েটির, কিন্তু এখন পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
https://www.facebook.com/share/v/1WHde2osXD/
মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা। আর নির্বাক বাবা তাকিয়ে আছেন মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুদন্ডের খবর তাঁদের মনে তৈরি করেছে গভীর শঙ্কা। সুয়েতি আক্তার বেঁচে আছেন, নাকি তাঁর পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ কিছু এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজল মিয়ার ছোট মেয়ে সুয়েটি আক্তার। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজের কথা বলে তাঁকে পাঠানো হয় বলে দাবি স্বজনদের। এ জন্য দালাল নতু মিয়াকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তাঁরা। পরিবার জানায়, সৌদি আরবের মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুয়েতি। দেশটিতে পৌঁছানোর প্রায় ছয় মাস পর গ্রেপ্তার হন তিনি। তবে গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সুয়েটিই তাঁদের আটকের বিষয়টি জানান। সুয়েটি পরিবারকে মারামারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে বললেও প্রবাসে থাকা সুয়েটির এক বান্ধুবী পরিবারকে জানায় এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। তবে যেটাই হয়ে থাকুক আমরা সুয়েটিকে ফেরত চাই।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর সকালে পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ করেন সুয়েটি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। এখন মেয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য খবরের অপেক্ষায় দিন কাটছে মা-বাবার।
এবিষয়ে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী মেয়েটের বাড়ি টাঙ্গাইল।
পরিবারের ও স্থানীয়দের দাবি, সুয়েটি আক্তার জীবিত থাকলে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। আর তাঁর মৃত্যুর খবর সত্য হয়ে থাকলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক সরকারের পক্ষ থেকে।
Leave a Reply