নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল শহরের শহীদ একাডেমিক স্কুল এন্ড কলেজে ৯ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল খোলা রাখায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন তোলার জন্য স্কুল খোলা রাখা হয়েছে। আর পুলিশ বলছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টায় শহরের সাবালিয়া এলাকায় শহীদ একাডেমিক স্কুল এন্ড কলেজের ভবণের নিচ থেকে মুইদ নামের এক শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের আয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুইদকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় এলাকায় জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনা৷ পরপরই অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদেরকে একে একে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
নিহত মুইদ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল গোলাবাড়ি এলাকার মোঃ সোহেল মিয়ার ছেলে। মুইদের মা লায়লা বেগম মানিকগঞ্জের কাছে এক এনজিওর মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করেন এবং মুইদের বাবাও ওই এলাকায় টেইলারিং এর কাজ করেন। মুইদের আরও একজন ছোট ভাই আছে, সে তার বাবা-মায়ের সাথে ওই এলাকায় থাকেন। কাজের সুবাদে নিজ জেলা ছেড়ে অনেকে দুরে থাকেন বলে মুইদের বাবা-মা তাকে টাঙ্গাইলেই শহীদ একাডেমিক স্কুল এন্ড কলেজে আবাসিকে ভর্তি করেন গত ডিসেম্বরে।
প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার আবাসিকের এই কক্ষ থেকে ক্লাশে যাওয়ার কথা ছিলো মুইদের। অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ক্লাশে গেলেও মুইদের নিথর দেহ পরে রয়েছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ক্লাশ খোলা রাখায় এত বড় ধরনের দুঘর্টনা ঘটেছে। ইতিপূর্বেও টাঙ্গাইলের একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হত্যাসহ একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও সেগুলো ধামাচাপা পড়েছে। মুইদের মৃত্যুর দায় প্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।
বিষয়টি রহস্য জনক মনে করছেন মুইদের পরিবার। তারাও তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
মুইদের মা লায়লা বেগম বলেন, স্কুলের সজিব স্যার মাঝে মাঝেই মুইদের বিরুদ্ধে নানান রকম অভিযোগ করে ফোন করতো,আর মুইদ ফোন করে বলতো সজিব স্যার ভালো না, আমি সজিব স্যারকে বলেছিলাম আমার ছেলেকে দেখে রাইখেন। তারা দেখে রাখলে আমার ছেলেটা আজ বেঁচে থাকতো।
শহীদ একাডেমিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বলছে, মুইদের সাথে তার বাবা মার ঝগড়া হয়েছে। সে পালাতে গিয়ে ভবণের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। শিক্ষার্থীদের বেতন তোলার জন্য সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ
রুহুল আমিন বলেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টাঙ্গাইলে বিভিন্ন প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিপূর্বেও কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
২০২২ সালে টাঙ্গাইলের সৃষ্টি একাডেমি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিহাবকে নির্মমভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হলেও, পরে সে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়।
Leave a Reply