1. online@tangail.tv : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. info@tangail.tv : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  3. admin@tangail.tv : admin :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ন

প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবারের দুশ্চিন্তা আর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তাঁর উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বুরাক এয়ারের UZ222 ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই দুই যুবক।

ফিরে আসা দুই যুবক হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে মো. সবুজ আলী (২২) এবং আব্দুল মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩)।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালিতে নেওয়া ও কাজ দেওয়ার আশ্বাসে বিদেশে যান সবুজ ও মেহেদী। সৌদি আরব ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে তাঁদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। প্রায় সাত মাস পর লিবিয়ার পুলিশ তাঁদের আটক করে। এরপর তাঁদের ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার কাইয়ুম ও এলেঙ্গা এলাকার আমিন জড়িত। কাইয়ুম পেশায় সিএনজিচালক। স্বজনদের দাবি, কাইয়ুমের আত্মীয় আমিনও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না করে একপর্যায়ে দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে তাঁর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তাঁর খোঁজ পাননি স্বজনেরা।

এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে সবুজ আলীর বড় ভাই মালয়েশিয়াপ্রবাসী রিপন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পাঠান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই যুবকের অবস্থান শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার তথ্য জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ বলেন, আগস্টের শেষে ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর সহায়তা না পেলে ভাই কোথায় আছে, সেটিও হয়তো জানতে পারতাম না। তাঁর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসনের আওতায় তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সবুজের বড় ভাই রিপন আহমেদ আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। একই সঙ্গে সবাইকে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আইওএমের সহযোগিতায় একই দিনে মোট ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost